২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্যারিসে নাগরিক পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠান নিয়ে অনাকাংখিত ঘটনার অবতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ২৯-১২-২০২৫
প্যারিসে নাগরিক পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠান নিয়ে অনাকাংখিত ঘটনার অবতারণা
প্যারিসে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংগঠন ফ্রান্স নাগরিক পরিষদ আয়োজিত মেধাবী শিক্ষার্থী ও গুনিজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘীরে ঘটেছে অনাকাংখিত ঘটনা। প্রথমবারের মত আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের গুনিজন ও প্রবাসীদের মেধাবী মুখ ছাড়াও গুনিজনদের মধ্যে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের বেশ ক’জন উপস্থিত ছিলেন। এরমধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক লেখক কলামিস্ট ডাক্তার পিনাকী ভট্টাচার্যও। কিন্তু ফ্রান্সে কতিপয় বাংলাদেশী দুস্কিৃতিকারী পিনাকী ভট্টাচার্যর উপস্থিতি নিয়ে শোরগোলের চেষ্টা করে। 
এক সময় বিভিন্নস্থান থেকে জড়ো হওয়া প্রতিবাদকারীরা প্যারিসের জাকজমকপূর্ণ ওই অনুষ্ঠান ভন্ডুলের চেষ্টা করে। এরাও সবাই প্রবাসী বাংলাদেশী। বিষয়টা নিয়ে প্যারিসে বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও ফ্রান্সের নাগরিকবৃন্দও কিছু বুঝে না উঠতে পেরে বাংলাদেশীদের এমন বিভাজনে বিস্ময় প্রকাশ করে। এক সময় আয়োজকদের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াও হয়। পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে ফ্রান্স পুলিশ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরবর্তিতে অনুষ্ঠান সুন্দর সমাপ্তি ঘটলেও এমন ঘটনা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।


এরই মধ্যে একজন বিসিএফ পরিচালক ও সমাজকর্মী প্যারিস- মো: নুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, 

“কালকের ঘটনায় কেউ সত্যিকার অর্থে জিতেনি হেরে গেছে বাংলাদেশ।” 

অনুষ্টানে মেধাবীদের হাতে ক্রেষ্ট তুলে দিচ্ছেন বিশেষ অতিথি  অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক লেখক কলামিস্ট ডাক্তার পিনাকী ভট্টাচার্য 
 

তিনি আরো লেখেন, প্যারিসের একটি অনুষ্ঠানে ভেতরে চলছিল “আজাদী আজাদী” স্লোগান, আর বাইরে “জয় বাংলা”। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফরাসি পুলিশের উপস্থিতি, তাদের সরল প্রশ্ন— “Qu’est-ce que c’est?” এই দৃশ্য আমাদের সবার জন্যই বিব্রতকর।
এই ধরনের ঘটনায় পেশিশক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে কেউ বিজয়ী হয় না; বরং সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই ঘটনার সরাসরি প্রভাব পড়বে আয়োজক এসোসিয়েশনের ওপর। ভবিষ্যতে তারা হল ভাড়া পেতে সমস্যায় পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, অন্য কোনো বাংলাদেশি এসোসিয়েশনও একই হলে প্রোগ্রাম করতে চাইলে অনুমতি পাবে কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের ইমেজের। মনে রাখা দরকার ফরাসিরা আলাদা করে আওয়ামী লীগ, জামায়াত বা অন্য দল চেনে না; তারা চেনে শুধু “বাংলাদেশি”। সচেতন মহল জানেন, প্যারিস প্রিফেকচারের একাধিক গোয়েন্দা টিম নিয়মিতভাবে আমাদের কমিউনিটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। এখানে কেউ অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে এমন সুযোগ নেই।


উল্লেখ্য, গতকাল  রোববার প্যারিসে ছোট-বড় মিলিয়ে আরও অন্তত চারটি প্রোগ্রাম হয়েছে, সবখানেই কমবেশি লোকসমাগম ছিল। একটি ইভেন্টের সফলতা বা ব্যর্থতা বিচার করতে হলে বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন; শুধুমাত্র উপস্থিতির সংখ্যা দিয়ে তা নির্ধারণ করা যায় না।

 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ